অপরাধচিত্র ডেস্ক:জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার কর গ্রামীণ কল্যাণকেই পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দায়ের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের রুল আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই চূড়ান্ত আদেশ দেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এই বিশাল অঙ্কের বকেয়া রাজস্ব আদায়ে এনবিআরের আইনি বাধা কাটলো।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
মামলার নথি ও প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি করে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে দুটি রিট আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত সে সময় রুল জারি করেন।
পরবর্তী সময়ে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত পূর্বতন হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) পূর্বের একটি রায় প্রত্যাহার করেন। একই সাথে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে নথি পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন নতুন বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ শুনানি ও পুনর্মূল্যায়ন শেষে নতুন বেঞ্চ রিট রুলটি সরাসরি খারিজ করে রায় ঘোষণা করায়, এনবিআরের পক্ষে গ্রামীণ কল্যাণের নিকট থেকে প্রদেয় কর আদায়ের পথ উন্মুক্ত হলো।


















