আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হুবাইব, টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফে পারিবারিক কলহের জের ধরে ছেলের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত আবুল কাসেম প্রকাশ লেডু মিস্ত্রি (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবুল কাসেম টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হামজারছড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি উলুচামরী এলাকার মৃত আবুল মঞ্জুরের ছেলে এবং পেশায় একজন ফার্নিচার মিস্ত্রি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) হামজারছড়া এলাকায় পারিবারিক বিষয় নিয়ে আবুল কাসেমের সঙ্গে তার ছেলে হারুন অর রশিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় হারুন অর রশিদ তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে আবুল কাসেম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হ্নীলা এলাকার একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে গেলে সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

হ্নীলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী জানান, “আমার ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাসেম নামে এক ব্যক্তি ছেলের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে খবর পেয়েছিলাম। আজ সকালে জেনেছি, তিনি চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।”
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, “পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের ছুরিকাঘাতে তিনি আহত হন। পরে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। চট্টগ্রামের পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের দাবি, বসতভিটার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে আবুল কাসেমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে আবুল কাসেমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

















