Thursday , 30 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

স্বামী হত্যার মাস্টারমাইন্ড স্ত্রী : পেনশন থেকে খুনির অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 30, 2026 1:31 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক: হুমায়ুন কবীর ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে জলকামান চালাতেন। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। আর এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাঁরই স্ত্রী।

তদন্ত শেষে ১১ জনকে আসামি করে এ বছরের মার্চে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, স্ত্রী সালমা বেগমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়া এবং হুমায়ুনের কাছ থেকে একজন আত্মীয়ের ধার নেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়া—এ দুই উদ্দেশ্যে খুন হন এই পুলিশ সদস্য। মাস দুয়েক ধরে চলে পরিকল্পনা। একাধিকবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে হুমায়ুনকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে হাত-পা বেঁধে রশি দিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে খুনের পর মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন। এখন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগম ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম (মলি), পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার, ফজলে রাব্বি শুভ, রাফি খান, আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির।

আসামিদের মধ্যে আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির শুরু থেকেই পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

সালমা, পলি ও রাফি কারাগারে আছেন। রাজীব, মলি, কায়েস ও শুভ জামিনে আছেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আর আর্থিক লেনদেন থেকে হুমায়ুনকে খুন করা হয়। ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

সালিশ ধারের টাকা : হুমায়ুন কবীর ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়েছিল ২০১০ সালে। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, নিকটাত্মীয় হওয়ায় তাঁদের বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন রাজীব হোসেন। প্রায় বছরখানেক আগে রাজীবের সঙ্গে সালমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছরের ২৫ এপ্রিল দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সালিশে সালমা ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেন।

ওই সালিশের তিন দিন পর ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল সকালে দয়াগঞ্জে নিজের ভাড়া বাসার ফটকের সামনে থেকে হুমায়ুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন হুমায়ুনের ছোট ভাই খোকন হাওলাদার যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, যাত্রাবাড়ীতে হুমায়ুনের ভাড়া বাসার ভবনের চারতলায় থাকেন মরিয়ম বেগম (মলি)। তিনি সালমা বেগমের আত্মীয়। তাঁর স্বামী বাবুল মুন্সী প্রবাসে থাকেন। তিন-চার বছর আগে হুমায়ুনের কাছে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন বাবুল। সেই টাকা ফেরত দেননি। সময়মতো টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হুমায়ুন বেঁচে থাকলে একদিকে সালমা ও রাজীবের সম্পর্কে বাধা থাকত, অন্যদিকে মলির ধারের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ থাকত। এ কারণে পারস্পরিক যোগসাজশে হুমায়ুনকে চিরতরে সরিয়ে ফেলার ছক কষা হয়।

মাস দুয়েকের পরিকল্পনা শেষে খুন : অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, খুনের ঘটনার মাস দুয়েক আগে থেকে ভাড়াটে খুনি খোঁজা শুরু হয়। মলির মাধ্যমে পলি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে পলির ভাগনে কায়েস হাওলাদারের মাধ্যমে শুভ, আশিক, সজীব, রাফি, আকাশসহ কয়েকজনকে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়।

একপর্যায়ে খুনের জন্য দা, রশি, গ্লাভসসহ নানা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। কয়েকবার সুযোগ পেলেও তা সফল হয়নি। পরে হুমায়ুনের প্রতিদিনের চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করে পরিকল্পনা বদলে ফেলা হয়। ভোরবেলায় বাসার সামনে মানুষ বেশি থাকে। তাই বাইরে নয়, বরং বাসার ভেতরেই খুন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২৭ এপ্রিল সালমা ও পলি স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কেনেন। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হুমায়ুন বাসায় ফিরলে তাঁর খাবারে সেই ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। রাত গভীর হলে মলি, পলি, শুভ ও রাফি ওই বাসায় যান। তখন হুমায়ুন সম্পূর্ণ অচেতন ছিলেন। তাঁর হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে কয়েকজন মিলে দুই পাশ থেকে টান দেন। সালমা তাঁর স্বামীর পা চেপে ধরে রাখেন। হুমায়ুনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘর থেকে বেরিয়ে যান।

অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, খুনের পর হাত-পায়ের বাঁধন খুলে হুমায়ুনের মরদেহ কাঁধে করে তিনতলা থেকে ভবনের নিচে নামিয়ে আনা হয়। বাইরে কোথাও নিয়ে সেটি ফেলে দিতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। কিন্তু হুমায়ুনের বাসার সামনে একটি রিকশার গ্যারেজ তখনো খোলা ছিল। তাই মরদেহ বাইরে নেওয়া সম্ভব হয়নি। মরদেহটি বাসার সামনে গেটের কাছে ফেলে দেওয়া হয়।

এরপর আসামিরা হুমায়ুনের বাসায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যান। তদন্তে বলা হয়েছে, খুনের সঙ্গে সালমা নিজে জড়িত, এটা যাতে কেউ বুঝতে না পারে, সে জন্য এমনটা করা হয়েছিল।

হুমায়ুনের পেনশন থেকে টাকা দেওয়ার চুক্তি: হত্যাকাণ্ডের পর শুভ ও রাফিকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী, বাকি টাকা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের টাকা থেকে পরিশোধ করার কথা ছিল।

তবে আসামিদের পরিকল্পনা কাজে আসেনি। পুলিশের সন্দেহ হলে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হুমায়ুনকে খুন করার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন বলেন, কয়েক দফা পরিকল্পনা বদলে হুমায়ুনকে খুন করা হয়েছিল। খুনের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।

মামলার বাদী খোকন হাওলাদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি খোলা পাওয়া যায়নি।

আসামি সালমা বেগমের আইনজীবী কামাল হোসেন বলেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। আসামি সালমা কারাগারে আছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন আদালত।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত