অপরাধচিত্র ডেস্ক:কসোভোর সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়লেন বিরোধী দলের এক আইনপ্রণেতা। এরপর সেখানে তুমুল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। যার জেরে শনিবার অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
কসোভোর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি। গত কয়েক দিন ধরে এই নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আলোচনা চললেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি।
কসোভোর সংসদে রক্ষণশীল বিরোধী দল ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অব কসোভো’-র আইনপ্রণেতা তিম কাদরিজাজ সংসদে কুর্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত!’ এরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দিকে ডিম ছুড়ে দেন।
জবাবে কুর্তি বলেন, আলোচনার পথ খোলা রাখার জন্য যদি তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাতেও তিনি খুশি।
কুর্তির বামপন্থী দল ‘ভেতেভেনদোসিয়ে’ অবশ্য সংসদে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য আগেও পরিচিত। ২০১৮ সালে এবং ২০১৫ সালে একাধিকবার এই দলের আইনপ্রণেতারা সংসদ কক্ষে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছিলেন।
কসোভোর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী? : কসোভো ২০০৮ সালে সার্বিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তার আগে ১৯৯৮-৯৯৩ সালে সেখানে যুদ্ধ হয়েছিল। ন্যাটোর বোমাবর্ষণের পর সার্বিয়ার সেনাবাহিনী কসোভো থেকে সরে যায়।
বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ কসোভোর স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ। তবে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড এখনও কসোভোকে সার্বিয়ার অংশ হিসেবেই দাবি করে।
গত দু’বছরেরও বেশি সময়ে কসোভোয় তিনবার নির্বাচন হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোনও দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর ডিসেম্বর মাসে ফের নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে জাতিগত সংখ্যালঘু আইনপ্রণেতাদের সমর্থনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন কুর্তি।
এর আগে কুর্তির দল ভেতেভেনদোসিয়ে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। জুনের আগাম নির্বাচনে তাদের ভোটের হার কমে ৪৩ শতাংশে দাঁড়ালেও জাতিগত সংখ্যালঘু দলগুলির সমর্থন নিয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে সক্ষম হয় তারা।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই সমর্থন আদায় করতেই বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন কুর্তি। কিন্তু এখনও কোনও প্রার্থীকে নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ফলে ফের রাজনৈতিক অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংসদের স্পিকার নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সাংবিধানিক সময়সীমাও শুক্রবার শেষ হয়েছে। কুর্তি আরও সময় নিয়ে আলোচনা চালানোর অনুরোধ জানানোয় বিরোধী আইনপ্রণেতারা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


















