অপরাধচিত্র ডেস্ক: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৪৮ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। উপজেলার ইছাখালী ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৬০ বস্তা সারসহ চারটি ট্রাক ও একটি ফিশিং বোট আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এবং মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরুল কাদের এসব তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার উপকূলীয় জলপথে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতি চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ইছাখালী ঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এ সময় নদীর পাড়ে রাখা চারটি ট্রাক থেকে একটি ফিশিং বোটে সারের বস্তা তোলার সময় কোস্ট গার্ড সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করা হয়।
পরে চারটি ট্রাক ও ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ৯৬০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে সার থাকায় জব্দ করা সারের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৮ হাজার কেজি বা ৪৮ মেট্রিক টন। কোস্ট গার্ডের হিসাবে, জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচার বন্ধে কোস্ট গার্ড নিয়মিত টহল ও নজরদারি করছে। এ ধরনের পাচার প্রতিরোধে উপকূলীয় এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীরুল কাদের জানান, আটক তিনজনকে সার ব্যবস্থাপনা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রত্যেককে ১ হাজার ৪০০ টাকা করে মোট ৪ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধের পর মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ফিশিং বোট থেকে জব্দ করা সারের মধ্যে ১৭৫ বস্তা সার কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বাকি সার এবং পাচারে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো প্রশাসনের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবশিষ্ট সার সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডেও মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে ৩০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার জব্দ করেছিল কোস্ট গার্ড। একই ধরনের ঘটনায় পরপর দুই দিনে বিপুল পরিমাণ সার জব্দের ঘটনায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় সার পাচার ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

















