Sunday , 27 September 2026 |
  1. অনিয়ন ও দুর্নীতি
  2. অপরাধ
  3. অপরাধচিত্র বিশেষ
  4. অর্থনীতি
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. কক্সবাজার
  8. কিশোরগঞ্জ
  9. কুড়িগ্রাম
  10. কুমিল্লা
  11. কুষ্টিয়া
  12. কৃষি ও প্রকৃতি
  13. ক্রীড়াঙ্গন
  14. খুলনা
  15. খেলাধুলা

শর্ত ভেঙে ‘আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ’ উপাধ্যক্ষ নিয়োগ, প্রশ্নের মুখে পটুয়াখালীর ডিসি

প্রতিবেদক
Newsdesk
September 27, 2026 12:14 am

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পদাধীকার বলে সভাপতি হিসেবে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর নিজের দেয়া শর্ত ভঙ্গ করে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে অভিজ্ঞতা ছাড়াই এক নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক কৃর্তক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তার নিজের দেয়া শর্ত ভঙ্গ ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় উল্লেখ করে গত ১৩ সেপ্টেম্বর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবকদের পক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম সংযুক্ত করা হয়েছে

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে এক নারীকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তবে এতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোনো শর্ত কিংবা অভিজ্ঞতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে জেলা প্রশাসক তাঁর ব্যক্তিগত পূর্ব সম্পর্কের কারনে ওই নারীকে নিয়োগ প্রদান করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ জানানো হয়।

অভিযোগ পত্রের তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর বয়স ৫০ থেকে ৬২ বছর এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক/মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অথবা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে অন্তত তিন বছরসহ মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল।

কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত মোসা. শাহানারা আক্তারের বয়স উল্লিখিত বয়সসীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাঁর কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা বা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও নেই। ফলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ না করা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো, তা তদন্তের দাবি করা হয়।

এ ছাড়া উক্ত পদে একাধিক যোগ্য শিক্ষক আবেদন করলেও তাঁদের সবাইকে সাক্ষাৎকারে না ডেকে দায় এড়াতে শাহানারা আক্তার এবং আর একজন প্রার্থীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। অভিজ্ঞতা থাকা প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের পর তাঁদের কেন সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়, পটুয়াখালীর বর্তমান জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পূর্বে জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে (ইউজিডিপি) দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শাহানারা আক্তারও ওই প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

এ কারণে তাঁদের পূর্বপরিচয় ও পেশাগত সম্পর্কের বাইরে অন্য কোনো সম্পর্ক নিয়োগের সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে আবেদনকারীরা মনে করেন।

জেলা প্রশাসক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী সম্প্রতি সরকারের যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় তিনি যেকোনো সময় বদলি হতে পারেন। এ কারণে তড়িঘরি করে শাহানারা আক্তারের চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শাহজালাল চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকালে মাসিক ২৫ হাজার টাকা সম্মানী পেতেন বলে জানা গেছে।

অথচ প্রয়োজনীয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও শাহানারা আক্তারকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিয়ে মাসিক ৪০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বেতন নির্ধারণের ভিত্তি, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ ছাড়া অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করাসহ সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া শাহানারা আক্তারের পূর্ব পরিচিত বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনির হোসেনের সঙ্গে উপাধ্যক্ষের সখ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগে উপাধ্যক্ষের কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকলেও শাহানারা আক্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর সিসি ক্যামেরা তাঁর রুম থেকে অপসারণ করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর শারীরিক সমস্যাজনিত কারণে ছুটির আবেদন করলে ওই ছাত্রীকে উপাধ্যক্ষ একজন নারী শিক্ষিকাকে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অভিযোগটি সত্য হলে তা শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মর্যাদা ও শিশু সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া শাহানারা আক্তারের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা ছিল, এমন বেশ কিছু ছবি অভিযোগপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর সাবেক মহিলা এমপি ও জেলা মহিলা লীগের সভাপতি কাজী হেলেনের কথিত মেয়ে হিসেবে শাহানারা আক্তার নিজেকে পরিচয় দিতেন বলে দাবি করা হয়।

জনপ্রশাসন সচিব বরাবর আবেদনপত্রের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিভাগীয় কমিশনার, বরিশালকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সরকারি মোবাইল ফোনে দু’দিন যাবত বহুবার ফোর করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য দিয়েছি। তদন্ত করে দেখব। নিয়মানুসারে যদি না হয়ে থাকে তাহলে তদন্তের পর অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ - জেলার খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত