Friday , 31 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

পেট্রোবাংলার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে: বাড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সিএনজি গ্যাসের দাম

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 31, 2026 9:15 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ  উৎপাদন ও যানবাহনে ব্যবহৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা।
​রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের প্রেরিত প্রস্তাবে বিদ্যুৎ ও সিএনজি খাতে গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
​তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নানের ভাষ্যমতে, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবটি মূলত সিএনজি স্টেশন মালিকদের মার্জিন (মুনাফা) বাড়ানোর দাবি।
​প্রস্তাবিত নতুন দর ও বর্তমান চিত্র
​পেট্রোবাংলার নতুন প্রস্তাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ২৫ টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম প্রায় ৬৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
​বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, বর্তমান ও প্রস্তাবিত মূল্যের চিত্র নিচে দেওয়া হলো: খাতের নামবর্তমান দাম (প্রতি ঘনমিটার)প্রস্তাবিত দাম (প্রতি ঘনমিটার)সম্ভাব্য বৃদ্ধি
বিদ্যুৎ উৎপাদন১৫ টাকা ৫০ পয়সা২৫ টাকা৯ টাকা ৫০ পয়সা (প্রায় ৬১%)
সিএনজি (যানবাহন)৪৩ টাকা (পাম্পমূল্য)*৬৫ টাকা বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী সিএনজি গ্রাহকশ্রেণিতে গ্যাসের দাম ৩৮ টাকা; স্টেশন মালিকদের মার্জিনসহ পাম্পমূল্য বর্তমানে ৪৩ টাকা।
​সংকটকালে দাম বাড়ানোর এ প্রস্তাব এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে আবাসিক রান্না, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
​পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের বক্তব্য
​শুক্রবার গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাবের বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, বিষয়টি ঢালাওভাবে সব ধরনের গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে নয়।
​তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মার্জিন না বাড়ায় লাভ কমে যাওয়ার কথা জানিয়ে সিএনজি স্টেশন মালিকেরা পেট্রোবাংলায় এসেছিলেন, এমনকি তারা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
​আব্দুল মান্নান বলেন:
​”তাদের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে সিএনজির দাম নিশ্চিতভাবেই বাড়বে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। স্টেশন মালিকদের দাবি বিবেচনার জন্যই এটি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার পর প্রয়োজন হলে আমরা লিখে দেব যে, সিএনজির দাম বাড়ানো হবে না।”
​তবে পেট্রোবাংলার অন্য এক কর্মকর্তার তথ্য মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহন—উভয় খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানোর স্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য খাতে গ্যাসের বর্তমান দর
​ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ: পুরোনো গ্রাহকদের অনুমোদিত লোডের ৫০% পর্যন্ত ৩১ টাকা ৫০ পয়সা। এর বেশি এবং নতুন গ্রাহকদের জন্য ৪২ টাকা।
​সার উৎপাদন: ২৯ টাকা ২৫ পয়সা।
​শিল্প খাত: পুরোনো শিল্প গ্রাহকদের অনুমোদিত লোডের ৫০% পর্যন্ত ৩০ টাকা। এর বেশি এবং নতুন শিল্প গ্রাহকদের জন্য ৪০ টাকা।
​অন্যান্য: চা শিল্পে ১১ টাকা ৯৩ পয়সা, বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৩০ টাকা ৫০ পয়সা এবং মিটারযুক্ত বাসাবাড়িতে ১৮ টাকা।
​বিতরণ মাশুলও বাড়ানোর আবেদন
​তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি বিতরণ মাশুল বা চার্জ বাড়ানোর আবেদন করেছে, যা পেট্রোবাংলা থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর মূল দাবি—বর্তমান মাশুল দিয়ে তাদের পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
​কর্ণফুলী গ্যাস: মাশুল ৩৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ২১ পয়সা করার প্রস্তাব।
বাখরাবাদ গ্যাস: ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯০ পয়সা করার প্রস্তাব।
জালালাবাদ গ্যাস: ১৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৩ পয়সা করার প্রস্তাব।
সুন্দরবন গ্যাস: ২৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৫ পয়সা করার প্রস্তাব।
তিতাস গ্যাস: দুই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে—৫% সিস্টেম লস ধরে ৩৫ পয়সা অথবা ২% সিস্টেম লস ধরে ১ টাকা ৪ পয়সা।
​পেট্রোবাংলার যুক্তি ও আর্থিক ঘাটতি
​পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় ও আমদানি করা গ্যাস মিলিয়ে প্রতি ঘনমিটারের গড় ক্রয়মূল্য ছিল ৩১ টাকা ৬৫ পয়সা, যার বিপরীতে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২৩ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে প্রতি ঘনমিটারে সংস্থাটির ঘাটতি হয়েছে ৮ টাকা ২ পয়সা।
​মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য ছিল ২৭ টাকা ৬৪ পয়সা, যা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ টাকা ৭৯ পয়সা। এই সময়ে আগের দরে গ্যাস বিক্রি করায় সংস্থাটিকে প্রতি ঘনমিটারে লোকসান গুণতে হয়েছে ২১ টাকা ৮২ পয়সা।
​ফলাফল হিসেবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার বিপরীতে সরকার থেকে ভর্তুকি মিলেছে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
আমদানিনির্ভরতার শঙ্কা
​পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, একসময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে। গত অর্থবছরে দেশের মোট সরবরাহ করা গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশই ছিল আমদানি করা এলএনজি।
​সংস্থাটির শঙ্কা, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে মোট চাহিদার ৩০ শতাংশে নামতে পারে, যা দেশকে ৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভরতার দিকে ঠেলে দেবে।
​ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেও পেট্রোবাংলার এ প্রস্তাব সরাসরি কার্যকর হবে না। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। কমিশন পরবর্তীতে তথ্য যাচাই, আর্থিক বিশ্লেষণ ও গণশুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত