বরগুনা প্রতিনিধি :
জেলহাজতে থাকা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বরগুনার একটি আদালত।
বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন গতকাল মঙ্গলবার বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত করে ওই আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, এটা কোনো সাধারণ প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নয়, বরং মামলার মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো একটি মৌলিক ত্রুটি। মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ও অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বেতাগী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ও বেতাগী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন।
অথচ মামলার আসামি মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বনি আমিন বরগুনা সদর থানার অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত টানা কারাগারে ছিলেন। তিনি জেলে থাকা অবস্থায় কীভাবে নতুন অভিযোগে জড়িত হলেন—বিষয়টি আদালতের নজরে এলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
গত ২৯ জুলাই আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে এসআই নজরুল ইসলাম নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি দাবি করেন, তথ্যদাতার (সোর্স) ভুল তথ্যের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমনটি ঘটেছে।
তবে আদালত এই ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট হয়ে বরগুনার পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আগামী ২৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে ওই সময়ের মধ্যে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন (কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট) দাখিল করতে পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি এই মামলার দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা। সোর্সের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলাম। তথ্যে ভুল থাকায় এই সমস্যা হয়েছে। আমি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, কাজ করতে গেলে ভুল-ত্রুটি হতে পারে। তবে আদালতের আদেশ সবাইকে মানেতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে আদালতকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















