অপরাধচিত্র প্রতিবেদক : বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন নয়; বরং নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তিতে দেশের সব মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
১৭ আগস্ট সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব মানুষের পরিচয় ও মর্যাদাকে ধারণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন গড়ে উঠতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি আর গণতন্ত্রের সংস্কৃতি এক বিষয় নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের পাশাপাশি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীরও সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের নানা অভিজ্ঞতা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, দেশের বৈচিত্র্যকে ধারণ করেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণ করতে হবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘মুসলিম-অমুসলিম কিংবা বাঙালি-অবাঙালি পরিচয়কে ঘিরে রক্তাক্ত ইতিহাস ও বিভাজনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে রাজনৈতিকভাবে কাঠামোবদ্ধ করেন। ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়কে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি করার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দর্শনের সূচনা করেন।’
স্বাধীনতা-উত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দেশ গভীর সংকটে পড়ে। ওই পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। বহুদলীয় রাজনীতির পুনঃপ্রবর্তন ও বিএনপি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেন।’
তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘একদলীয় শাসনের বিপরীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং একক পরিচয়ের বিপরীতে বহু পরিচয়, মত ও সংস্কৃতির সহাবস্থানই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শক্তির মূল জায়গা।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমানের পর বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের এই রাজনৈতিক দর্শনকে এগিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘তারেক রহমান যে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারাবাহিক বিকাশ।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক বিকাশ, জাতীয় পরিচয়, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রচিন্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির লেখক রুহুল আমিনসহ রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, তারেক রহমান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে দুর্বার পাবলিকেশন্স। ১৪৪ পৃষ্ঠার বইটিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


















