মিজানুর রহমান, ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের নগরকান্দায় অবস্থিত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, নিয়োগ-বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাত ও সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহারসহ নানা গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের একাংশ এসব অভিযোগ করেছেন।
পরীক্ষায় জালিয়াতি ও নগদ অর্থ আদায়
অভিযোগ মতে, উন্মুক্ত কলেজের প্রায় ৭০-৮০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নকলের সুযোগ দেওয়ার নামে বিষয়প্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়া ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার চুক্তিতে অতিরিক্ত পাতায় উত্তর লিখিয়ে খাতায় সংযুক্ত করা, পরীক্ষার সময় মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং তদারককারী ট্যাগ কর্মকর্তাকে লাইব্রেরিতে আপ্যায়ন ও সম্মানী দিয়ে বসিয়ে রেখে কার্যালয় সহকারী ও শিক্ষকদের মাধ্যমে নকলে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।
এমনকি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার মাত্র দুই দিন আগে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্বল্প শিক্ষার্থী ও অনিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম সরেজমিনে গিয়ে কলেজ অংশে কোনো শিক্ষার্থী দেখা যায়নি এবং স্কুলের একটি শ্রেণিকক্ষে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি মেলে। নিয়মিত শিক্ষার্থী ও ক্লাস কার্যক্রম না থাকলেও প্রতিবছর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে চাহিদা দেখিয়ে প্রায় ৪০০ সেট বই উত্তোলন করা হয়, যার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হচ্ছে। ২০২৬ সালের বইয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ পাওয়া ৩০টি কম্পিউটারের সেট শিক্ষার্থী না থাকায় ল্যাবে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
নিয়োগ-বাণিজ্য ও সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে লাখ লাখ টাকা লেনদেন এবং পরিবারের সদস্যদের সুবিধার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অফিস সহকারী ও কর্মচারীদের দিয়ে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত কৃষিজমি ও বাড়ির কাজ করানো হয়। প্রতিষ্ঠানের সেগুন কাঠের আসবাবপত্র, ফ্যান ও কমোড অধ্যক্ষ ও তার ভাইয়ের বাসায় ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু ফ্যান ব্যক্তিগত মসজিদে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অধ্যক্ষের বাড়ি থেকে কয়েকটি ফ্যান খুলে এনে পুনরায় শ্রেণিকক্ষে লাগানো হয়।
তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও ব্যাংক হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকাসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আত্তাপ হোসেন মন্তব্য করেন, “প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে একটু-আধটু অনিয়ম হবে, হওয়া স্বাভাবিক।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অনিয়ম ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহার তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

















