অপরাধচিত্র ডেস্ক: পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই সেন্টমার্টিন দ্বীপের ছেঁড়াদ্বীপ এলাকায় বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য ভেসে এসেছে। এসব বর্জ্যের মধ্যে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। কয়েকটি বোতল ও প্যাকেটের গায়ে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো ও বিদেশি ভাষায় লেখা দেখা গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ধারণা, সমুদ্রস্রোত ও বাতাসের কারণে প্রতিবেশী দেশ দুটির কোনো একটি এলাকা থেকে এসব বর্জ্য ভেসে সেন্টমার্টিনে এসে থাকতে পারে। বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ এবং প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সেন্টমার্টিনে এ ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
টেকনাফ সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবস্থান। গত ৩ অক্টোবর শনিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মী আব্দুল আজিজ দ্বীপটির সর্বদক্ষিণের অংশ ছেঁড়াদ্বীপে যান। সেখানে তিনি সৈকতজুড়ে বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য দেখতে পান। অথচ পর্যটন মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। ফলে বর্তমানে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াতও নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মী আব্দুল আজিজ বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যগুলো কাছ থেকে পরীক্ষা করে দেখেছেন। অধিকাংশ বোতলই বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছে বলে মনে হয়েছে। এসব বোতলের লেবেলে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো রয়েছে।
আব্দুল আজিজের ধারণা, এসব প্লাস্টিকসামগ্রী ওই দুই দেশের যেকোনো একটি এলাকা থেকে সমুদ্রপথে ভেসে আসতে পারে।
তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কোনো পর্যটক নেই। তারপরও এত পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য দেখে আমরা বিস্মিত। এত বর্জ্য হঠাৎ কোথা থেকে এল?’
সেন্টমার্টিনের কেয়াবনেও একই ধরনের বর্জ্য দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয় হোটেল মালিক আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্যের গায়ে থাকা লেবেল ও লেখা দেখে তাদের ধারণা, এগুলো মিয়ানমার বা থাইল্যান্ড থেকে এসেছে। বর্ষার প্রবল স্রোত ও দক্ষিণা বাতাসের কারণে এসব বর্জ্য সেন্টমার্টিনে ভেসে আসতে পারে।
আব্দুর রহিম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়ভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর বর্জ্য সেন্টমার্টিনের জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
‘অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়’ : পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, প্লাস্টিকের বোতলের গায়ে থাকা কয়েকটি লোগো তারা সংগ্রহ করে দেখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি থাইল্যান্ডের কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লোগো বলে মনে হয়েছে।
এ ছাড়া কিছু প্যাকেটের গায়ে বিদেশি ভাষায় লেখা রয়েছে, যেগুলো মিয়ানমারের বলে মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আমরা পর্যটন সীমিত করছি, সৈকত পরিষ্কারে অভিযান চালাচ্ছি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করেছি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দূষণ কমানোর লক্ষ্যে। অথচ অন্য দেশ থেকে আসা বর্জ্যও আমাদের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটিকে দূষিত করছে।’
তিনি বলেন, এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য যদি উপকূলে এসে পৌঁছায়, তাহলে সমুদ্রের তলদেশেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্লাস্টিক জমা হতে পারে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান খন্দকার মাহমুদ পাশা। তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে এভাবে বর্জ্য জমতে থাকলে তা প্রবালের ক্ষতি করতে পারে এবং সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
দ্বীপের দূষণ কমাতে তারা কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আন্তসীমান্ত দূষণ মোকাবিলায় যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।

















