অপরাধচিত্র ডেস্ক: ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আগাম তথ্য না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উল্টো রাশিয়াকে সহায়তা করেছে- এমন অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দাবি, সম্প্রতি কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ওয়াশিংটন এ নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা দেয়নি। এর মাধ্যমে তারা মস্কোকে সহায়তা করেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার মাধ্যমে সামরিক প্রতিক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি ইউক্রেনের। এ অবস্থায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ককে স্টারলিংক পরিষেবা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।
কিয়েভের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে স্টারলিংকের ইন্টারনেটের গতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি হয়তো কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা। আমরা এটি পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য অনুরোধ করছি।’
এদিকে ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, পরিষেবায় যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটার দায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের। তাঁর কোম্পানির নয়। পরে ইউক্রেনের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানান, স্টারলিংকের কার্যক্রম ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ফেরানোর কাজ চলছে। এই গতি ফিরলে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনগুলো আবার উড়তে পারবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য ইউক্রেন ‘স্টারশিল্ড’ সেবার ওপর নির্ভরশীল। এটি স্পেসএক্সের সামরিক পরিষেবার স্যাটেলাইট। একই সঙ্গে দেশটিতে বেসামরিক স্যাটেলাইট সেবা স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার হয়। সামরিক অভিযানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি নেই।
কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কোর সঙ্গে ট্রাম্প সম্প্রতি একটি ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়টি প্রতারণামূলক বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেড়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্য পক্ষকে বেছে নেওয়াটা সত্যিই কষ্টদায়ক। উপদেষ্টারা সম্ভবত তাঁকে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছেন।’
গত মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালায় রাশিয়া। এর মাধ্যমে দেশটি ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেন জেলেনস্কি।
কিয়েভের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধের হুমকি দিয়েছে। মূলত এসব তথ্য ব্যবহার করে ইউক্রেন রুশ হামলা প্রতিহত করে। তবে ট্রাম্প এমন হুমকি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

















