Friday , 31 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

জব্দ করা কম্বল আত্মসাতের চেষ্টা: মোগলাবাজার থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 31, 2026 12:07 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:​

রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব পুলিশের হাতে। আর পুলিশ বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি একটি থানার প্রধান কর্তাব্যক্তি। সেই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান দায়িত্ব তার হাতেই ন্যস্ত থাকে। কিন্তু সেই থানার ওসি যদি নিজেই চুরির সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে সমাজ থেকে অপরাধ দূর হবে কীভাবে—সে প্রশ্ন উঠেছে।

​এমনই এক ঘটনা ঘটেছে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ওসি মো. মনির হোসেনের ক্ষেত্রে। এই ওসির বিরুদ্ধে জব্দ করা চোরাচালানের কম্বল সংখ্যায় কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তিনি কম্বলের গুণগত মান গোপন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়েছেন। একাধিক মামলার নথিপত্র, এসএমপি কমিশনারের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​ঘটনাটি শুরু হয় মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে (মামলা নম্বর: জিআর-০৫/২৬)। ওই অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যান থেকে ৫৬০টি দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) দামি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। তবে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী একজন উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি ৫৬০টির বদলে এজাহারে মাত্র ৪৩০টি কম্বল জব্দ তালিকায় দেখান। এ ছাড়া কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট, নাকি ডাবল পার্ট—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।

​তদন্তে দেখা যায়, এর আগে সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান নামে এক ব্যক্তি আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮টি এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কেনেন। পরে কামরুল হাসানের কাছ থেকে আরমান হুদা নামে এক ব্যবসায়ী ২২৮টি এবং মো. সেলিম আহমদ নামে এক ব্যক্তি ৪৩০টি কম্বল কিনে নেন। পরবর্তী সময়ে আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জিম্মানামার নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০টি কম্বল আসলে শাহপরান থানার মামলা থেকে তার কেনা নিলামের কম্বল। ওসির পরিকল্পনা ছিল—আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করে নেওয়া এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০টি কম্বল নিজেরা আত্মসাৎ করা।

​মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত না করে পূর্ববর্তী কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ধারা বজায় রাখেন। আদালত আলামতের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে কাজী তোবারক হোসেন সরেজমিন থানায় রক্ষিত কাভার্ডভ্যানের কম্বল গণনা বা পরীক্ষা না করেই চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি নিলামগ্রহীতা ও ক্রেতাদের ভুয়া কাগজপত্রের বর্ণনা দিয়ে আলামতগুলোকে শাহপরান থানার নিলাম করা কম্বল হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

​তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনের সঙ্গে মামলার এজাহারের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী ও সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আদালত নতুন করে কম্বল গণনা ও গুণগত মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।

​আদালতের নাজির আজাদ মিয়ার নেতৃত্বে বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান, অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম ও জিআরএ শাখার উপপরিদর্শকসহ তদন্ত দল মোগলাবাজার থানা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। সেখানে তালাবদ্ধ ও সিলগালা করা কাভার্ডভ্যানে (রেজি. নম্বর: ঢাকা-মেট্রো-টি-১৮২৬২৯) তল্লাশি চালিয়ে ৫৬০টি দ্বিস্তরবিশিষ্ট দামি কম্বল গণনা করে পান। উদ্ধার করা কম্বলগুলো ‘নিউ জান্নাত, এনরোস চেরি, জিন্দাল ব্ল্যাংকেটস কিং, রয়েল গোল্ড ও গোল্ড’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটে রক্ষিত ছিল।

​ওই ঘটনার পর ৯ মার্চ তোবারক হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কৈফিয়ত দিতে বলা হয়। শুনানি চলাকালে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তা তোবারক হোসেনকে জিজ্ঞাসা করেন—তিনি নিজে আলামত সরেজমিন যাচাই করেছেন কি না। জবাবে তোবারক হোসেন স্বীকার করেন, তিনি নিজে আলামত দেখেননি; জনৈক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেদন দিয়েছেন। পরে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তার অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে এসএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠান।

​পরে এসএমপি কমিশনার তোবারকের বিরুদ্ধে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘একজন প্রথম শ্রেণির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও তোবারক হোসেনের এই বেআইনি কার্যক্রম ও চোরাকারবারিদের সহায়তা করার প্রবণতা বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি জনসমক্ষে ও আদালতের সামনে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। তার এই কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অপেশাদারত্ব, অদক্ষতা, নৈতিক স্খলন, গাফিলতি ও চরম অসদাচরণের শামিল।’

​এই কৈফিয়ত তলবনামার জবাব পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার যিনি প্রকৃত নায়ক, সেই ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

​পাওয়া কিছু ছবিতে দেখা যায়, ওসি মনিরের সাবেক গাড়িচালক কনস্টেবল মো. শাখাওয়াত হোসেন জব্দ করা গাড়ি থেকে কম্বল বের করে সরিয়ে নিচ্ছেন। জব্দ করা কাভার্ডভ্যান থেকে বিভিন্ন রঙের বেশ কিছু কম্বল নামিয়ে নিচে রেখেছেন। জানতে চাইলে শাখাওয়াত বলেন, ‘ভাই, আমি ওই ঘটনার পর চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। আমি এখন ওই বিষয়ে কথা বলতে অপারগ।’

​জানা গেছে, ওসি মনির ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সিলেটের শাহপরান থানার ওসি ছিলেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে জব্দ করা মাল চুরির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে তাকে শাহপরান থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়।

​সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছিলেন। সব কম্বল থানা হেফাজতে ছিল। পরে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।’

​এসএমপি কমিশনারের একটি চিঠিতে বেশ কয়েকবার লেখা হয়েছে ওসির মদদে ও নির্দেশে কম্বল চুরি হয়েছে, কমিশনার কেন এটা লিখবেন—এমন প্রশ্নে ওসি মনির বলেন, ‘কেউ কারও বিরুদ্ধে লিখলে তো আর কম লেখে না। তাই তিনি লিখেছেন।’

​এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, ‘আমি তার (ওসি মনির) সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রথমে বিভাগীয় ব্যবস্থা, পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

​জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাদিম মাহমুদ বলেন, ‘ওসির কম্বল চুরির অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা নিছক একটি অনিয়ম নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক দেউলিয়াপনা এবং রাষ্ট্রীয় পদের চরম অবমাননার শামিল। জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হওয়ার কথা যার, তার বিরুদ্ধেই এ ধরনের অভিযোগ ওঠা পুরো পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করে এবং স্পষ্ট করে যে, কিছু কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনের বদলে সুবিধাভোগে বেশি আগ্রহী। এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কেবল তীব্র নিন্দাই যথেষ্ট নয়, দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তি ও আইনগত ব্যবস্থা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত লোভের হাতিয়ার বানাতে না পারে।’

​ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের পুলিশ সাধারণত ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তবে এখানে জালিয়াতির মাধ্যমে কম্বল আত্মসাতের যে বিষয়টি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত নিম্নমানের দুর্নীতি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি জালিয়াতি, আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলা করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত

দুদকের ঘাড়ে বন্দুক রেখে দায়মুক্তি : রাজস্ব কর্মকর্তা বেলাল হোসাইন রাজস্ব লোপাট করেই শতকোটি টাকার মালিক

ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন ইবরার টিপু

সংস্কার ও নির্বাচন উভয়ই প্রয়োজন: তারেক রহমান

বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বুধবার থেকে ৬৪ জেলায় ট্রাকসেলে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হবে

প্রতিটি কন্যার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকবে রাষ্ট্র: তারেক রহমান

আমরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছি: অর্থ উপদেষ্টা

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা প্রত্যাহারের দাবি ডিআরইউর

বাকস্বাধীনতা খর্ব করে নজরদারিভিত্তিক রাষ্ট্র বানিয়েছিল আওয়ামী লীগ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন অনুভূত