অপরাধচিত্র প্রতিনিধি (জয়পুরহাট) : জয়পুরহাটে তীব্র লোডশেডিং নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক মিটার রিডারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৫ আগস্ট শনিবার পাঁচবিবি উপজেলার শ্রীমন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক।
এদিকে অতিরিক্ত লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১০টি উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছেন জিএম। জেলার পাঁচটি উপজেলার এসব উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৬ থেকে ২৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসার অভিযোগও করছেন অনেকে।
জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকার গ্রাহক শিল্পী বেগম বলেন, ‘এমনিতেই বিদ্যুৎ থাকে না, তার ওপর বিল আসছে দ্বিগুণ। আগে ২৬০ টাকা বিল এলেও এখন ৫২০ টাকা আসছে। বাড়িতে টিভি বা ফ্রিজ নেই। শুধু একটি বাল্ব ও দুটি ফ্যান চলে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা বিল কীভাবে দেব?’
কালাই পৌরশহরের আঁওড়া মহল্লার গ্রাহক জাকির হোসেন বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। গরমে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। অথচ মাসের পর মাস বিদ্যুৎ বিল বেড়েই চলেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এরই মধ্যে পাঁচবিবির একটি উপকেন্দ্রে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীমন্তপুরে মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে বিদ্যুতের সরবরাহ না বাড়লে এ সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া।


















