অপরাধচিত্র রিপোর্ট: গ্রাহকদের জন্য মোবাইলে কথা বলার খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বর্তমানে নির্ধারিত ভয়েস কলের সর্বনিম্ন ট্যারিফ বা ‘ফ্লোর প্রাইস’ কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ট্যারিফ ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
বর্তমানে ভয়েস কলের সর্বনিম্ন রেট ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ রেট ২ টাকা। গ্রাহক সুবিধার কথা ভেবে সর্বনিম্ন রেট কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গম ও হাওর অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
স্প্যাম ও ডাটা প্যাকেজ
বিটিআরসি জানায়, স্প্যাম বার্তা রোধে সব ধরনের এসএমএসকে ধাপে ধাপে মাস্কিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তিগত কারণে বিদেশি ওটিপি পেতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। অন্যদিকে, মোবাইল ডাটা প্যাকেজের সব শর্ত গ্রাহকের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে অপারেটরদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেটওয়ার্ক ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ
বিদ্যুৎ চলে গেলেও নেটওয়ার্ক সচল রাখতে একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সারাদেশের মোবাইল টাওয়ারগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আর টাওয়ারের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ প্রসঙ্গে বিটিআরসি নিশ্চিত করেছে, নিয়মিত পরিমাপে বিকিরণের মাত্রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
অভিযোগ প্রতিকার ও নতুন নিয়ম
গ্রাহকরা কলসেন্টার ১০০, ওয়েবসাইট ও জিআরএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত জমা পড়া ১৩ হাজার ৯টি অভিযোগের মধ্যে ১১ হাজার ২৭৯টি (৮৬.৭০%) নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সেবার মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রতি মাসে মাসভিত্তিক তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার গণশুনানির আয়োজন করবে বিটিআরসি। এবারের অনলাইন শুনানিতে প্রায় ৩ হাজার গ্রাহক নিবন্ধিত হয়ে ট্যারিফ, নেটওয়ার্ক ও ডাটার মেয়াদসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন।

















