Tuesday , 15 September 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি ও প্রকৃতি
  12. ক্রীড়াঙ্গন
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. গাইবান্ধা

জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধ: ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদক
Newsdesk
September 15, 2026 1:58 pm

অপরাধচিত্র প্রতিনিধি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

রায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা
মামলার অভিযোগপত্রে ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি কাউন্টে অভিযোগ আনা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া, দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামানো এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল।
১১ জুলাই ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই কথোপকথনকে ঘিরে।
এরপর ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের বিভিন্ন বক্তব্য এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলন প্রতিরোধে মাঠে নামার আহ্বানকে অভিযোগের অংশ করা হয়।
১৬ জুলাই ইন্টারনেটের গতি কমানো এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
১৯ জুলাইয়ের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্দোলন প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারফিউ ও সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গেও কাদেরের বক্তব্য মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে আন্দোলন দমনের নামে সরকারি ও দলীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তী সময়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, মিরপুর, মহাখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলায় বহু মানুষ হতাহত হওয়ার ঘটনা মামলার অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।

নাছিমের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মকাণ্ড তদারকির অভিযোগ:

বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের বড় অংশজুড়ে রয়েছে আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা এবং বিভিন্ন এলাকার কর্মকাণ্ড তদারকির বিষয়।
১৫ জুলাই ধানমন্ডির দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতির বিষয়টি মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মাদারীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে।
৪ আগস্ট ঢাকায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরির অন্যতম ঘটনা হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

আরাফাতের বিরুদ্ধে হামলা ও সম্প্রচার বন্ধের অভিযোগ:সাবেক তথ্যসম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার তদারকি এবং আন্দোলনের খবর প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, জুলাইয়ের বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেন তিনি। কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার সাময়িক বন্ধ করার ঘটনাও অভিযোগের অংশ হয়েছে।
মহাখালীসহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করা হয়েছে।

যুবলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে যুবলীগের নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমনে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।পরশের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেন এবং আন্দোলন প্রতিহত করতে তাদের মাঠে সক্রিয় করেন। চট্টগ্রাম, মহাখালী, লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহীতে সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে রয়েছে।
অন্যদিকে মাইনুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে সরাসরি মিরপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে অবস্থান এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। ১৯ জুলাইসহ পরবর্তী সময়ে মিরপুরে সংঘটিত একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ

সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, হুমকি দেওয়া এবং হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
১১ জুলাই থেকে শুরু করে ১৫ ও ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হামলার বিষয়গুলো মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সাদ্দামের বক্তব্য ও নির্দেশনার পর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ইনানের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা ও মাঠপর্যায়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাণহানি ও আহতের বড় হিসাব

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীদের হামলায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।
তবে এসব তথ্য মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের অংশ—রায়ের আইনগত ভিত্তি ও প্রত্যেক আসামির দায় সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণই চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচ্য।

সাত মামলায় সাজা ৬৮ জনের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ট্রাইব্যুনালের সপ্তম রায়। দুই ট্রাইব্যুনালের সাতটি রায়ে এখন পর্যন্ত ৬৮ আসামিকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশই পলাতক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সর্বশেষ - জেলার খবর