আনিসুর রহমান মোল্লা: উপস্থাপিকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ, সংগঠনের নামে বিভিন্ন মহল থেকে টাকা নেওয়া এবং ১২টি অটোরিকশার মধ্যে ১০টি বিক্রি করে অর্থ বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাকিব সোলারীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কথিত একটি টেলিভিশন প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও ডা. সরোয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ‘বঙ্গবন্ধু কালচারাল ও মিডিয়া ফোরাম পরিষদ’ এবং ‘গরিবের মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সামনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে মাহমুদা আক্তার মুক্তি নামের এক নারী নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করেছেন।
উপস্থাপিকা বানানোর প্রলোভনের অভিযোগ:
মাহমুদা আক্তার মুক্তির অভিযোগ, তাকে একটি কথিত টেলিভিশন প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন।
তার দাবি, পরবর্তীতে তাকে সামনে রেখে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের বিষয়ে তাকে স্বচ্ছ কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। এছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রায় দুই মাসের মাথায় তাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
১২ অটোর মধ্যে ১০টি বিক্রির অভিযোগ:
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজের অর্থে মোট ১২টি অটোরিকশা কিনেছিলেন। এসব যানবাহনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুবাদে অটোরিকশাগুলোর দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাকিব সোলারীকে।
মুক্তির অভিযোগ, পরবর্তীতে ১২টির মধ্যে ১০টি অটোরিকশা একে একে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে বিক্রির অর্থ তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বাকি দুটি রিকশা একটি গ্যারেজে আটকে রয়েছে বলেও তার দাবি।
গ্যারেজ ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় গ্যারেজ মালিকরা ওই দুটি রিকশা ছাড়ছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দৈনিক জমার টাকা চাইতে গেলে বিভিন্ন সময় সময়ক্ষেপণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
ডা. সরোয়ার ও কথিত HTV প্রসঙ্গ:
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ডা. সরোয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কথিত ‘HTV’ প্ল্যাটফর্মে সাকিব সোলারীকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ এবং রোগী আনার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
তবে কথিত এই টেলিভিশন প্ল্যাটফর্মের অনুমোদন, কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
থানায় জিডি ও লিখিত অভিযোগ:
নথি অনুযায়ী, সাকিব সোলারীর করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্য পাওয়া গেছে। জিডি নম্বর ১৪৯৭, তারিখ ২০ অক্টোবর ২০২৫; ধানমন্ডি থানায় এটি করা হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এসব ঘটনার পর মাহমুদা আক্তার মুক্তি শাহজাহানপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগের একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এছাড়া তার বক্তব্যের ভিডিও এবং ভিডিও কলের রেকর্ডও সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, লেনদেনের হিসাব, যানবাহনের মালিকানা ও বিক্রির কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাকিব সোলারী ও ডা. সরোয়ারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহ প্রকাশ করা হবে।

















