Friday , 31 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুমিল্লা
  9. ক্রীড়াঙ্গন
  10. খুলনা
  11. খেলাধুলা
  12. গাইবান্ধা
  13. গাজীপুর
  14. চট্রগ্রাম
  15. চাকরি

ভুলে যাওয়া নায়কের নতুন লড়াই

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 31, 2026 3:59 pm

বিনোদন ডেস্ক :

পর্দায় তাঁর আবির্ভাব মানেই যেন বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ। লাল-নীল পোশাক, মুখোশের আড়ালে এক সাধারণ তরুণ আর অসাধারণ দায়িত্ববোধ। এই সবের মিশেলেই দুই দশকের বেশি সময় ধরে কোটি কোটি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে স্পাইডার-ম্যান। সুপারহিরোর জগতে অনেক চরিত্র এসেছে, অনেকেই বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু স্পাইডার-ম্যানের আবেদন যেন অন্যরকম। সে শুধু অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করে না; প্রতিটি গল্পে লড়াই করে নিজের ভয়, একাকিত্ব, ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা আর আত্মত্যাগের সঙ্গেও।

তাই প্রতিবারই স্পাইডার-ম্যানের নতুন সিনেমা মুক্তির আগে যেমন দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়, তেমনি শুরু হয়ে যায় অসংখ্য জল্পনা-কল্পনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের অন্যতম প্রতীক্ষিত এ সিনেমাকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম। সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে পিটার পার্কারের নতুন অভিযান। কেউ জানতে চাইছেন, ‘নো ওয়ে হোম’-এর সেই আবেগঘন সমাপ্তির পর পিটারের জীবন কোন পথে এগোবে। কেউ আবার অপেক্ষা করছেন নতুন ভিলেন, নতুন সংঘাত কিংবা পুরোনো পরিচিত চরিত্রগুলোর প্রত্যাবর্তনের জন্য।

স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত তার মানবিকতা। সে কোনো দেবতা নয়, কোনো ধনকুবেরও নয়। সাধারণ একটি ছেলের জীবন কীভাবে অসাধারণ দায়িত্বের ভারে বদলে যায়, সেই গল্পই বারবার দর্শকদের টেনে আনে।

স্কুল, বন্ধু, ভালোবাসা, স্বপ্ন, ব্যর্থতা। সবকিছুর মধ্যেও তাকে প্রতিদিন লড়তে হয় মানুষের জন্য। সে কারণেই পৃথিবীর নানা প্রান্তের দর্শক নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান পিটার পার্কারের মধ্যে। স্পাইডার-ম্যানের নতুন সিনেমাটি শুরু হচ্ছে এমন এক বাস্তবতা থেকে, যেখানে পৃথিবীর কেউ আর জানে না পিটার পার্কারকে। ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ সিনেমার শেষ মুহূর্তে ডক্টর স্ট্রেঞ্জের জাদুর ফলে সবাই তার পরিচয় ভুলে যায়। সবচেয়ে কাছের মানুষ এমজেও আর তাকে চিনতে পারে না।
বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, পরিচয়। সব হারিয়ে একা হয়ে পড়ে পিটার। সেই একাকিত্ব নিয়েই শুরু হচ্ছে তার নতুন জীবন। সে এখনও নিউইয়র্ককে রক্ষা করছে, কিন্তু আর কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। নেই এমন কেউ, যার কাছে মুখোশ খুলে নিজের ক্লান্তির কথা বলা যায়।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমায় পিটারকে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি পরিণত, দায়িত্বশীল এবং মানসিকভাবে দৃঢ় হিসেবে দেখা যাবে। একই সঙ্গে তাকে ঘিরে তৈরি হবে নতুন এক রহস্য। একদিকে অতিমানবীয় শক্তির অদ্ভুত পরিবর্তন, অন্যদিকে নতুন এক ভয়ংকর শত্রুর আবির্ভাব। সব মিলিয়ে তার সামনে অপেক্ষা করছে এমন এক পরীক্ষা, যা শুধু শক্তি দিয়ে নয়, সাহস ও আত্মবিশ্বাস দিয়েও মোকাবিলা করতে হবে।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন। মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম এবং স্পাইডার-ম্যান সিরিজের চতুর্থ এই চলচ্চিত্রে আবারও স্পাইডার-ম্যানের ভূমিকায় দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। এমজে চরিত্রে ফিরছেন জেন্ডায়া। পাশাপাশি ফিরে আসছেন জ্যাকব ব্যাটালন এবং হাল্ক চরিত্রে মার্ক রাফেলো। তবে এবারের গল্পে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি নতুন মুখ। ‘আসোকা’খ্যাত অভিনেতা ইমান এসফান্ডি অভিনয় করছেন এমজের নতুন সঙ্গীর চরিত্রে। অন্যদিকে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া সেডি সিঙ্ককে দেখা যাবে রহস্যময় এক চরিত্রে, যাকে ঘিরে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য জন বার্নথালের প্রত্যাবর্তন। জনপ্রিয় ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে তার ফিরে আসার খবর প্রকাশের পর থেকেই মার্ভেল ভক্তদের উত্তেজনা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

স্পাইডার-ম্যান এবং পানিশারের মুখোমুখি হওয়া কিংবা একসঙ্গে লড়াই করার সম্ভাবনা নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা। শুধু গল্প নয়, প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই সিনেমা নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। এটি বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা সম্পূর্ণভাবে ‘শট ফর স্ক্রিন-এক্স’ উদ্যোগের আওতায় নির্মিত হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে মূল পর্দার পাশাপাশি সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য সম্প্রসারিত হয়। ফলে দর্শক প্রায় ২৭০ ডিগ্রি বিস্তৃত দৃশ্যের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করেন। অ্যাকশন দৃশ্য, উড়ে চলা কিংবা শহরের ওপর দিয়ে স্পাইডার-ম্যানের দোল খাওয়ার মুহূর্তগুলো তাই আগের চেয়ে আরও বাস্তব ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যেও সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহ কম নয়। বরং আন্তর্জাতিক মুক্তির আগেই এটি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দেশের মার্ভেল ভক্তরা। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩১ জুলাই মুক্তি পেলেও বাংলাদেশে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে গতকাল।

মুক্তির অনেক আগে থেকেই ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ট্রেলার প্রকাশের পর সেই আগ্রহ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই ট্রেলারটি ৭১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি ভিউ অর্জন করে নতুন রেকর্ড গড়ে। সামাজিক মাধ্যমে এর বিভিন্ন দৃশ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ভিডিও, তত্ত্ব আর আলোচনা। কে আসছে, কে ফিরছে, আসল ভিলেন কে–এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ভক্তরা। অগ্রিম টিকিট বিক্রির চিত্রও একই গল্প বলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুক্তির আগেই অনেক প্রদর্শনীর টিকিট শেষ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের সবচেয়ে সফল সুপারহিরো চলচ্চিত্রগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

আসলে স্পাইডার-ম্যানের শক্তি শুধু তার জালের মধ্যে নয়; তার শক্তি লুকিয়ে আছে মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতায়। প্রতিটি নতুন সিনেমায় দর্শক শুধু এক সুপারহিরোকে দেখেন না, দেখেন এক তরুণের বড় হয়ে ওঠার গল্প। দেখেন হারানোর পরও আবার নতুন করে শুরু করার সাহস। সে কারণেই ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ শুধু একটি নতুন সিনেমার নাম নয়, এটি পিটার পার্কারের জীবনের নতুন সূচনা। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের জন্য আরেকটি নতুন অপেক্ষার অবসান।

সর্বশেষ - রাজনীতি