জাহিদ হাসান, নেত্রকোন প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মৃত বাছেত খানের ছেলে ঈশা খান (৩৩) এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আগনা বাড়ি এলাকার দেওয়ান হিরন মিয়ার ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে হৃদয় (৩০)।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই রাতে দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিমের সহায়তায় সাতজনের একটি দল এই ডাকাতির পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয়।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ডাকাত দলের সদস্যরা। এরপর তারা বাড়ির সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনাটি জানতে পেরে দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুর ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত অভিযানে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার সিদলী এলাকার তালতলা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অভিযানের সময় আবদুল ওয়াদুদ মিয়ার ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিমসহ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঈশা খান ও হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাড়ির সদস্যদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছিল। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং স্থানীয় জনতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চার ঘণ্টার মধ্যে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করি। পরবর্তীতে ঢাকা ও ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”


















