অপরাধচিত্র ডেস্ক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, নতুন উড়োজাহাজ কেনা এবং প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্য নীতির মূল ভিত্তি হলো—বাণিজ্য হতে হবে মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় সেখান থেকে পণ্য আমদানি করে খুবই কম। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের নিয়ম হলো, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করবে, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও পণ্য কিনতে হবে।
বিশ্বের সব দেশ যদি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু নিজেরা কিছু না কেনে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। এই বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’তে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ যেমন আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে, তেমনই এর শর্ত মেনে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত ও সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে। এই সংস্কারগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত জরুরি ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য ঠিক করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মানসম্মত গম ও কৃষিপণ্য কিনছে। মার্কিন গমে অপচয় মাত্র ২%, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আনা গমের ২০% নষ্ট হতো। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বহর বাড়াতে ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। মার্কিন কম্পানিগুলো তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী, তবে সরকারের দেওয়া শর্তগুলো ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যান বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নেন। জাল কাগজপত্র এবং অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সাথে একযোগে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যেন বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায়, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হামের মতো রোগ মোকাবিলায় মার্কিন সহায়তা চালু রয়েছে। খুব শিগগিরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি সই হবে।
তিনি বলেন, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই উপলক্ষ্যে শুধু ঢাকাতেই নয়—চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান চলবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশাকে লাল, সাদা ও নীল রঙে (মার্কিন পতাকার রঙে) সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও স্বাধীনতার কাহিনী তুলে ধরার জন্য ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।
সবশেষে, বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের মানুষকে মার্কিন দলকে সমর্থন করার অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।


















