Monday , 27 July 2026 |
  1. অপরাধ
  2. অপরাধচিত্র বিশেষ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কুমিল্লা
  7. ক্রীড়াঙ্গন
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. গাইবান্ধা
  11. গাজীপুর
  12. চট্রগ্রাম
  13. চুয়াডাঙ্গা
  14. জাতীয়
  15. জামালপুর

ঢাকা দক্ষিন সিটি জামায়াত প্রার্থী করছে সাদিক কায়েমকে, এনসিপির আসিফ মাহমুদ কী করবেন।

প্রতিবেদক
Newsdesk
July 27, 2026 5:32 pm

অপরাধচিত্র ডেস্ক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার বিষয়টি মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এর আগেই এই সিটিতে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নাম ঘোষণা করেছিল জামায়াতের জোটসঙ্গী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আসিফ মাহমুদ এখন এনসিপির নীতিনির্ধারকদের একজন, দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। এনসিপি তাঁকে প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াতের দিক থেকে সাদিক কায়েমকে সেখানে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১০ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেননি। এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দিতে তখন জামায়াতের দিক থেকে আপত্তি ছিল।
এটাকে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা না হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আবার কারও কারও মত, দুই দলই এখন নিজেদের মতো করে প্রার্থী ঠিক করছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট বেঁধে অংশ নিয়েছিল জামায়াত ও এনসিপি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কবে হবে, তা চূড়ান্ত না হলেও বছরের শেষ দিকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আপাতত দলের মনোযোগ একক প্রস্তুতিতে। যেহেতু এখনো তফসিল ঘোষণার বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি, ফলে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিভিন্ন দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হচ্ছে। তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাদিক কায়েমকে জামায়াতের প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে এনসিপিতে আসিফ মাহমুদের সমর্থকদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের সম্মুখভাগে ছিলেন আসিফ মাহমুদ। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে স্থান পাওয়া তিন ছাত্র উপদেষ্টার মধ্যে তিনি একজন। নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সরকার থেকে পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলের মুখপাত্র হন আসিফ মাহমুদ। ঢাকা–১০ সংসদীয় আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি প্রার্থী হননি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা আগে যদি জাতীয়ভাবে মনে হয় যে সমঝোতা হলে সরকারি দলের বাইরে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।

এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আসিফ মাহমুদকে সমর্থন দিতে জামায়াতের দিক থেকে আপত্তি ছিল। দলটির পক্ষ থেকে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল, উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনের সময় আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের কারণে আসিফকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব নয়। পরে আসিফ আর নির্বাচনে অংশ নেননি। সিটি করপোরেশনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে।’

অবশ্য এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্যের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনের সময় জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা ছিল নেতিবাচক। সে কারণে তাঁর প্রতি জামায়াতের তীব্র আপত্তি আছে।

অবশ্য জামায়াতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সেই বিষয়গুলো কী, তা বলতে চাননি এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের ওই নেতা।

সিদ্ধান্ত তফসিলের সময়

এনসিপি এখন পর্যন্ত এককভাবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ, উত্তর সিটিসহ পাঁচ সিটির মেয়র পদের পাশাপাশি ১০০ উপজেলা–পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৯ মার্চ তারা পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণে দলটির প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদের নাম আসে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অন্যান্য দলের মতো এনসিপির নেতারাও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্য দলের অনেকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ থেকে এই আলোচনা।

মামুনুল হকের দল এনসিপির মতোই জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে রয়েছে। আবার কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তিনি ছিলেন। ১১–দলীয় ঐক্য ছেড়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন এবং এই জোটের কর্মসূচিতে আর না থাকার ঘোষণা দেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারাও ওই বৈঠকে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে মামুনুল হকের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের আলোচনার ভিন্ন তাৎপর্য আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট থেকে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টিতে জিতেছে এনসিপি। আসিফ মাহমুদ মনে করেন, ৩০টি আসনে নির্বাচন করা এবং ২৭০টি আসনে নির্বাচন না করার কারণে এনসিপির তৃণমূল অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই স্থানীয় নির্বাচনে ৭০ শতাংশ জায়গায় তারা প্রার্থী রাখতে চান।
এনসিপির দায়িত্বশীল একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোট বা সমঝোতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যদি নতুন সম্ভাব্য জোট থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আসিফ মাহমুদকে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সমর্থন দেয়, আর উত্তর সিটিতে মামুনুল হককে ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি সমর্থন দেয়, তাহলে একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। আবার এনসিপি যদি জামায়াত জোট থেকেই নির্বাচন করে, তাহলে ঢাকার দুই সিটির একটি আর কুমিল্লা (আসিফ মাহমুদের বাড়ি) অথবা ঢাকার আশপাশের কোনো একটি সিটিতে সমর্থন চাইবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জোট–সমঝোতা প্রসঙ্গে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বা আগে যদি জাতীয়ভাবে মনে হয় যে সমঝোতা হলে সরকারি দলের বাইরে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে বিরোধী দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যেক দলই সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রার্থীদের অবস্থান শক্তিশালী করার দিকেই মনোযোগী।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন সাদিক কায়েম, 
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের অনেক প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন। গত ২২ জুন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে তাঁকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

এরপর ১৩ জুলাই ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব ছাড়েন। নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

জামায়াত সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার পর এটি অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ জামায়াতের সমর্থন পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, আসিফ মাহমুদ তাহলে কী করবেন? তিনি কি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করবেন, করলে কীভাবে করবেন, নাকি এনসিপি তাঁকে কুমিল্লা বা অন্য কোনো সিটিতে প্রার্থী করবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ বলেছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তাঁর ধারণা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো বোঝাপড়া হবে। সেটি রাজনৈতিক জোট না হয়ে নির্বাচনী সমঝোতাও হতে পারে।সেই সমঝোতা জামায়াত জোটের বাইরে হতে পারে কি না, জানতে চাইলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘সব ধরনের সম্ভাবনাই আসলে আছে।’

আমাদের অন্য নেতাদের সঙ্গেও অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর (মামুনুল হক) নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রক্রিয়া হলে সেটা হবে দলীয় উদ্যোগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব স্পষ্ট নয় যে কার সঙ্গে কী হবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, মুখপাত্র, এনসিপি
মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মামুনুল হকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো, আমাদের অন্য নেতাদের সঙ্গেও অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রক্রিয়া হলে সেটা হবে দলীয় উদ্যোগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব স্পষ্ট নয় যে কার সঙ্গে কী হবে। আমার মনে হয়, তফসিল ঘোষণার সময় আসতে আসতে এগুলো স্পষ্ট হবে।’

সংসদ নির্বাচনে জামায়াত জোট থেকে ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬টিতে জিতেছে এনসিপি। আসিফ মাহমুদ মনে করেন, ৩০টি আসনে নির্বাচন করা এবং ২৭০টি আসনে নির্বাচন না করার কারণে এনসিপির তৃণমূল অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা সব জায়গাতেই যাতে এককভাবে অংশগ্রহণ করতে পারি অথবা যদি কোনো ধরনের বোঝাপড়া হয়ও, সেখানেও অন্তত ৭০ শতাংশ জায়গায় আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।’

 

সর্বশেষ - রাজনীতি