ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের কানাইপুরের হাসান শেখ হত্যা মামলায় ৪ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলার ২০১ ধারায় আসামিদের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায় আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিরা যে সাজা ভোগকরেছেন, সেখান থেকে সাজা বাদ যাবে বলে বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেন।
আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ফরিদপুরের স্পেশাল জজ আদালতের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুরের সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের মোসা. ফরিদা বেগম, ফারুক বিশ্বাস, চান্দু শেখ ও শাহজাহান মাতুব্বর। মামলায় চার আসামির মধ্যে তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামি মোসা. ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পরে পুলিশ পাহারায় ৩ আসামিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার বিরোধের জেরে ২০১৮ সালের ৯ মে রাত থেকে ১৩ মে বিকেলের মধ্যে ঝাউখোলা এলাকার ইমাম উদ্দিন শেখের ছেলে হাসান শেখকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয়। ১৩ মে বিকেলে ঝাউখোলা গ্রামের আখ ক্ষেতে স্থানীয়রা কাজ করতে গিয়ে গন্ধ পেয়ে সেখান থেকে বস্তাবন্দী হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান তদন্ত করে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।
আদালতের সরকারি কৌঁশলি (পিপি) শাহ্ মো. আজিজুর রহমান বিকু বলেন, ‘মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।’


















